[bangla_time] | [bangla_day] | [english_date] | [bangla_date]

সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের দুর্বিষহ জীবন

সাইবার ক্রাইম

অনলাইন ডেস্কঃ দুই সন্তানের জননী মুনা (ছদ্মনাম), বয়স ৪০ বছর, স্বামী-সন্তানদের নিয়ে সুখেই কাটছিল সংসার। একদিন সেই সুখের সংসার ভেঙে তছনছ করে দেয় ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক যুবক।

শুধু মুনা নয়, এক অনলাইনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন অনেকগুলো ঘটনা। তবে তাদের সবারই পরিণতি মুনার মতোই। সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ এ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বেছে নিয়েছেন আত্মহননের পথ।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এক শ্রেণির বিকৃত রুচির মানুষ মেতে উঠেছে বিকৃত উল্লাসে। তাদের টার্গেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে অল্প জানা নারীরা। যারা সাইবার জগতের এসব নোংরামো সম্পর্কে পরিচিত নন। প্রতিদিনই সেইসব নারীরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে জীবন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কথা শুনে আগ্রহী হন মুনা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ফেসবুকে একটি আইডি খোলেন তিনি। তারপর পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই যুক্ত হতে থাকেন সেখানে। তাদেরই একজন শাহরিয়ার। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে শাহরিয়ার ও মুনার মধ্যে বাড়তে থাকে যোগাযোগ। শাহরিয়ার ও মুনা একই বিভাগের বাসিন্দা হওয়ায় মুনা শাহরিয়ারকে তার বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানায়। বিভিন্ন উত্সব অনুষ্ঠানে, কারণে-অকারণে শাহরিয়ারের যাতায়াত বাড়তে থাকে মুনাদের বাড়িতে।

এভাবে যাতায়াতের এক পর্যায়ে শাহরিয়ার মুনাদের বাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়। এরই মাঝে একদিন বিকেলে শাহরিয়ার মুনাকে ফোন করে অশ্লীল প্রস্তাব দেয়। মুনা তাতে অসম্মতি জানালে শাহরিয়ারের বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে ধারণ করা মুনার ছবি ও ভিডিও অশ্লীলভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় শাহরিয়ার। এমনকি মুনা এবং তার সন্তানদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয় সে। এতেও মুনা রাজি না হলে, শাহরিয়ার ব্যবহার করেন সাইবার অস্ত্র। মুনার ছবি ও ভিডিও বিকৃতভাবে এডিট করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এতে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয় মুনা ও তার পরিবার।

এমনেই আর একটি ঘটনা, মেয়টি তখন সবে মাত্র ইন্টারমেডিয়েট শেষ করেছে, তার সব বন্ধু-বান্ধুবীদের কাছে ভালো মোবাইল আছে তার কাছে ভালো মোবাইল নাই, এই কথা বলে বলে পরিবার থেকে একটা ভালো মোবাইল কিনে নেয়। তার পর তার এক বন্ধুর সহজোগিতায় ফেসবুক আইডি খুলে নেয়। প্রথমত তার পরিচিতদের এ্যাড করে নেয় তার ফ্রেন্ড লিস্টে। এমনি ভাবে সে তার পাশের গ্রামের দূর সম্পর্কের এক বড় ভাই কে এ্যাড করে। যেহেতু পরিচিত এবং পাশি পাশি বাসে সেই সুত্র ধরে ছেলেটি প্রথম থেকেই মেয়টিকে তুমি করেই বলতো।

ছেলেটি সব সময় মেয়টির খোঁজ খবর নিত, মেয়টিও সেটাকে ভালো চোখেই দেখতো। ছেলেটি একটি সরকারি চাকুরি করতো আর বাইরে থাকত তাই গ্রামে তার একটু কদরও বেশি ছিল ।

আস্তে আস্তে তাদের মাঝে গভীরতা বারতেই থাকে, তাদের মাঝে ফেসবুক মানেই একে অপরের সাথে চ্যাটিং ছাড়া আর কিছুই না, এরেই মাঝে তাদের মাঝে ছবি আদান-প্রদান, সহ ভিডিও কলেও কথা চলত।

এক পর্যায়ে ছেলেটি মেয় টিকে প্রেমের প্রস্তাব করে, প্রথমে মেয়টি রাজি না হলেও মনে মনে তার প্রতি সে দুর্বল ছিলই, এবং এক সময় তাদের মাঝে প্রেমের বন্ধন তৈরি হয়ে যায়।

তাদের ভালোবাসা যখন গভীর পর্যায়ে পৌঁছায় তখন কিছুদিন পর পর ছেলেটি ছুটি নিয়ে বাসায় আসতো মেয়েটির সাথে দেখা করার জন্য। তারা এক সাথে এখানে সেখানে ঘুতে বের হত। এক দিন ছেলেটি মেয়টিকে কিছু কুপ্রস্তাব দেয় মেয়েটি রাজি না হলেও তাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে দুপুরের খাবার কথা বলে এক আবাসিকে নিয়ে যায়। এবং সেখানে জোড় ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সর্বশ কেরে নেই, সেই মুখোশ ধারী ভালো ছেলেটি। এবং মেয়েটি পরে বুঝতে পারে সে প্রেগন্যান্ট। ছেলেটি যখন জানতে পারলো যে সে প্রেগন্যান্ট, তখন তাকে আস্তে আস্তে এরিয়ে যাওয়া শুরু করল। এক সময় মেয়টির পরিবার থেকে বিসয়টি জানতে পারলে তাকে পরিবার থেকে প্রচুর অপমান, অপদস্ত আর অত্যার সহ্য করতে হয়, এ দিকে ছেলেটিও সবকিছু অস্বীকার করতে থাকে।

এমন অপমান মেনে নিতে না পেরে মেয়টি শেষমেশ আত্মহত্যার পথেই বেছে নেয়, এবং মৃত্যুর আগে তার পুরা কাহিনী টি ডাইরিতে লিখে রেখে যায়।

আরেক ঘটনার শিকার লায়লা (ছদ্মনাম)। তার বয়স ৩৫। রাজধানী ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা এ নারীর সঙ্গে ২০১১ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় তার চেয়ে বয়সে ৫ বছরের ছোট রনি নামের এক যুবকের সঙ্গে। পরিচয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ফেসবুক আর ম্যাসেঞ্জারে আদান-প্রদান হতে থাকে খুদেবার্তা। মাসখানেকের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। এরপর বিভিন্ন স্থানে তারা একান্তে সময় কাটাতে থাকে। কৌশলে রনি তাদের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে।

এক পর্যায়ে রনির অসত্ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে লায়লা তার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে লায়লা যখন সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তখন রনি তাদের একান্ত মুহূর্তে তোলা সেই ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি চুপচাপ মিটিয়ে ফেলার জন্য লায়লা ও তার স্বামী রনির অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে উল্টো হুমকি আসতে থাকে সেদিক থেকে। এমনকি তারা দুই লাখ টাকা দাবি করে লায়লার কাছে। লায়লার পরিবার থেকে সেই টাকা পরিশোধ করা হলেও রনি তাদের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

এমনকি ছবিগুলো পাঠাতে থাকে লায়লার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কাছে। এমন সাইবার ক্রাইমের শিকার নারীরা অনেকে হারিয়ে ফেলছেন তাদের স্বাভাবিক জীবন। মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সারা জীবনের জন্য। অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কাউকে ধর্ষণ করে তা ক্যামেরায় ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ভালোবাসা বা মনোভাব প্রকাশের অভিব্যক্তিটা তারা বোঝে না। পারিবারিক যথাযথ আচরণগত পরিচর্যার অভাবে এসব মানুষগুলো অনেক বেশি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে থাকে। আর সেখান থেকেই তারা সাইবার অপরাধের মতো কুরুচিপূর্ণ কাজ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘বর্তমানে ইন্টারনেট, ফেসবুক খুব বেশি সহজলভ্য হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা অল্প বয়সেই ঝুঁকিপূর্ণ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।

পরবর্তীতে পুরনো সম্পর্কটাকে ভুলে যখন কেউ নতুন কোনো বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে, তখনই ঘটছে সাইবার ক্রাইমের মতো গুরুতর অপরাধ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দেয়া তথ্যমতে গত ১ বছরে খোদ ঢাকা মহানগর এলাকায় সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ জমা পড়েছে ২০০টির বেশি।

অভিযোগকারীদের প্রায় ৮০ ভাগই নারী। তবে এই সময়ে ঘটনার শিকার হয়েও অভিযোগ করেননি, তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম সুমন বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ যার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, কাল সেটি নাও থাকতে পারে। তাই ভিডিও ও ছবি তোলার সময় আমাদের অনেক বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, অতিমাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে এবং বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষের জীবনে দিন দিন অপসংস্কৃতি বিরাজ করছে। কিশোর-কিশোরীরা শিকার হচ্ছেন প্রতারণামূলক প্রেমের সম্পর্কের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যৌনবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো দেখার কারণে তাদের মধ্যে কমে যাচ্ছে নীতি-নৈতিকতা। ফলশ্রুতিতে তারা জড়িয়ে পড়ছে সাইবার ক্রাইমসহ নানা অপকর্মে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সৌদিতে অসুস্থ বাংলাদেশির সহায়তায় দূতাবাস

» মালয়েশিয়ায় দালালের খপ্পরে পিতা-পুত্র

» বন্ধ হয়ে যেতে পারে মাইক্রোসফট ‘পেইন্ট’

» ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিটিসেলকে তরঙ্গ দেওয়ার নির্দেশ

» গরু হত্যা || এ কেমন নির্মমতা!!

» সরকারি খাদ্যগুদাম অরক্ষিত || পাঁচ হাজার টন চাল চুরি

» বিপিএলের নতুন আইকন || মুস্তাফিজ

» ফিলিস্তিন মিশন শুরু আজ

» ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে নির্বাচনের পথে হাঁটুন || নাসিম

» বায়তুল মোকাদ্দাসে ইসরাইলি তাণ্ডব || ইমামসহ আহত ১৪

» মিনি স্কার্ট পরায় সৌদি মডেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

» শিখে নিন বৃষ্টিভেজা দুপুরে মাছের কোফতা কারি

» প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে

» ভূমিধসে, জাতিসংঘের সের্ফ এর এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ

» রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয় রক্ষায় মানববন্ধনে কোমলমতি শিশু

সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com

,

সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের দুর্বিষহ জীবন

সাইবার ক্রাইম

অনলাইন ডেস্কঃ দুই সন্তানের জননী মুনা (ছদ্মনাম), বয়স ৪০ বছর, স্বামী-সন্তানদের নিয়ে সুখেই কাটছিল সংসার। একদিন সেই সুখের সংসার ভেঙে তছনছ করে দেয় ফেসবুকে পরিচয় হওয়া এক যুবক।

শুধু মুনা নয়, এক অনলাইনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন অনেকগুলো ঘটনা। তবে তাদের সবারই পরিণতি মুনার মতোই। সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ এ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বেছে নিয়েছেন আত্মহননের পথ।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এক শ্রেণির বিকৃত রুচির মানুষ মেতে উঠেছে বিকৃত উল্লাসে। তাদের টার্গেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে অল্প জানা নারীরা। যারা সাইবার জগতের এসব নোংরামো সম্পর্কে পরিচিত নন। প্রতিদিনই সেইসব নারীরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে জীবন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কথা শুনে আগ্রহী হন মুনা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ফেসবুকে একটি আইডি খোলেন তিনি। তারপর পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই যুক্ত হতে থাকেন সেখানে। তাদেরই একজন শাহরিয়ার। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে শাহরিয়ার ও মুনার মধ্যে বাড়তে থাকে যোগাযোগ। শাহরিয়ার ও মুনা একই বিভাগের বাসিন্দা হওয়ায় মুনা শাহরিয়ারকে তার বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানায়। বিভিন্ন উত্সব অনুষ্ঠানে, কারণে-অকারণে শাহরিয়ারের যাতায়াত বাড়তে থাকে মুনাদের বাড়িতে।

এভাবে যাতায়াতের এক পর্যায়ে শাহরিয়ার মুনাদের বাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়। এরই মাঝে একদিন বিকেলে শাহরিয়ার মুনাকে ফোন করে অশ্লীল প্রস্তাব দেয়। মুনা তাতে অসম্মতি জানালে শাহরিয়ারের বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে ধারণ করা মুনার ছবি ও ভিডিও অশ্লীলভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় শাহরিয়ার। এমনকি মুনা এবং তার সন্তানদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয় সে। এতেও মুনা রাজি না হলে, শাহরিয়ার ব্যবহার করেন সাইবার অস্ত্র। মুনার ছবি ও ভিডিও বিকৃতভাবে এডিট করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এতে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয় মুনা ও তার পরিবার।

এমনেই আর একটি ঘটনা, মেয়টি তখন সবে মাত্র ইন্টারমেডিয়েট শেষ করেছে, তার সব বন্ধু-বান্ধুবীদের কাছে ভালো মোবাইল আছে তার কাছে ভালো মোবাইল নাই, এই কথা বলে বলে পরিবার থেকে একটা ভালো মোবাইল কিনে নেয়। তার পর তার এক বন্ধুর সহজোগিতায় ফেসবুক আইডি খুলে নেয়। প্রথমত তার পরিচিতদের এ্যাড করে নেয় তার ফ্রেন্ড লিস্টে। এমনি ভাবে সে তার পাশের গ্রামের দূর সম্পর্কের এক বড় ভাই কে এ্যাড করে। যেহেতু পরিচিত এবং পাশি পাশি বাসে সেই সুত্র ধরে ছেলেটি প্রথম থেকেই মেয়টিকে তুমি করেই বলতো।

ছেলেটি সব সময় মেয়টির খোঁজ খবর নিত, মেয়টিও সেটাকে ভালো চোখেই দেখতো। ছেলেটি একটি সরকারি চাকুরি করতো আর বাইরে থাকত তাই গ্রামে তার একটু কদরও বেশি ছিল ।

আস্তে আস্তে তাদের মাঝে গভীরতা বারতেই থাকে, তাদের মাঝে ফেসবুক মানেই একে অপরের সাথে চ্যাটিং ছাড়া আর কিছুই না, এরেই মাঝে তাদের মাঝে ছবি আদান-প্রদান, সহ ভিডিও কলেও কথা চলত।

এক পর্যায়ে ছেলেটি মেয় টিকে প্রেমের প্রস্তাব করে, প্রথমে মেয়টি রাজি না হলেও মনে মনে তার প্রতি সে দুর্বল ছিলই, এবং এক সময় তাদের মাঝে প্রেমের বন্ধন তৈরি হয়ে যায়।

তাদের ভালোবাসা যখন গভীর পর্যায়ে পৌঁছায় তখন কিছুদিন পর পর ছেলেটি ছুটি নিয়ে বাসায় আসতো মেয়েটির সাথে দেখা করার জন্য। তারা এক সাথে এখানে সেখানে ঘুতে বের হত। এক দিন ছেলেটি মেয়টিকে কিছু কুপ্রস্তাব দেয় মেয়েটি রাজি না হলেও তাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে দুপুরের খাবার কথা বলে এক আবাসিকে নিয়ে যায়। এবং সেখানে জোড় ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সর্বশ কেরে নেই, সেই মুখোশ ধারী ভালো ছেলেটি। এবং মেয়েটি পরে বুঝতে পারে সে প্রেগন্যান্ট। ছেলেটি যখন জানতে পারলো যে সে প্রেগন্যান্ট, তখন তাকে আস্তে আস্তে এরিয়ে যাওয়া শুরু করল। এক সময় মেয়টির পরিবার থেকে বিসয়টি জানতে পারলে তাকে পরিবার থেকে প্রচুর অপমান, অপদস্ত আর অত্যার সহ্য করতে হয়, এ দিকে ছেলেটিও সবকিছু অস্বীকার করতে থাকে।

এমন অপমান মেনে নিতে না পেরে মেয়টি শেষমেশ আত্মহত্যার পথেই বেছে নেয়, এবং মৃত্যুর আগে তার পুরা কাহিনী টি ডাইরিতে লিখে রেখে যায়।

আরেক ঘটনার শিকার লায়লা (ছদ্মনাম)। তার বয়স ৩৫। রাজধানী ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা এ নারীর সঙ্গে ২০১১ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় তার চেয়ে বয়সে ৫ বছরের ছোট রনি নামের এক যুবকের সঙ্গে। পরিচয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ফেসবুক আর ম্যাসেঞ্জারে আদান-প্রদান হতে থাকে খুদেবার্তা। মাসখানেকের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। এরপর বিভিন্ন স্থানে তারা একান্তে সময় কাটাতে থাকে। কৌশলে রনি তাদের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে।

এক পর্যায়ে রনির অসত্ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে লায়লা তার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে লায়লা যখন সম্পর্কটি থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তখন রনি তাদের একান্ত মুহূর্তে তোলা সেই ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি চুপচাপ মিটিয়ে ফেলার জন্য লায়লা ও তার স্বামী রনির অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে উল্টো হুমকি আসতে থাকে সেদিক থেকে। এমনকি তারা দুই লাখ টাকা দাবি করে লায়লার কাছে। লায়লার পরিবার থেকে সেই টাকা পরিশোধ করা হলেও রনি তাদের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

এমনকি ছবিগুলো পাঠাতে থাকে লায়লার আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কাছে। এমন সাইবার ক্রাইমের শিকার নারীরা অনেকে হারিয়ে ফেলছেন তাদের স্বাভাবিক জীবন। মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সারা জীবনের জন্য। অনেকক্ষেত্রে দেখা গেছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র কাউকে ধর্ষণ করে তা ক্যামেরায় ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ভালোবাসা বা মনোভাব প্রকাশের অভিব্যক্তিটা তারা বোঝে না। পারিবারিক যথাযথ আচরণগত পরিচর্যার অভাবে এসব মানুষগুলো অনেক বেশি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে থাকে। আর সেখান থেকেই তারা সাইবার অপরাধের মতো কুরুচিপূর্ণ কাজ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, ‘বর্তমানে ইন্টারনেট, ফেসবুক খুব বেশি সহজলভ্য হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা অল্প বয়সেই ঝুঁকিপূর্ণ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে।

পরবর্তীতে পুরনো সম্পর্কটাকে ভুলে যখন কেউ নতুন কোনো বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে, তখনই ঘটছে সাইবার ক্রাইমের মতো গুরুতর অপরাধ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দেয়া তথ্যমতে গত ১ বছরে খোদ ঢাকা মহানগর এলাকায় সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ জমা পড়েছে ২০০টির বেশি।

অভিযোগকারীদের প্রায় ৮০ ভাগই নারী। তবে এই সময়ে ঘটনার শিকার হয়েও অভিযোগ করেননি, তাদের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম সুমন বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ যার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, কাল সেটি নাও থাকতে পারে। তাই ভিডিও ও ছবি তোলার সময় আমাদের অনেক বেশি সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিচিত কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, অতিমাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে এবং বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষের জীবনে দিন দিন অপসংস্কৃতি বিরাজ করছে। কিশোর-কিশোরীরা শিকার হচ্ছেন প্রতারণামূলক প্রেমের সম্পর্কের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যৌনবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো দেখার কারণে তাদের মধ্যে কমে যাচ্ছে নীতি-নৈতিকতা। ফলশ্রুতিতে তারা জড়িয়ে পড়ছে সাইবার ক্রাইমসহ নানা অপকর্মে।

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com