রাত ১২:১৮ | বুধবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রাণ আপ

pran-up-add

সন্তানকে দেখার আর্তনাদে ‘সেই বৃদ্ধা মা’ || “কখন আসিবে দেখিবা মোর ছুয়াডা!”

মনিরুল ইসলাম(রয়েল),ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া এলাকার নির্যাতিতা সেই আলোচিত বৃদ্ধা ‘মা’ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। চোখের আঘাতের ক্ষত অনেকাংশে পূরণ হতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের দু’তলায় ৩নং কেবিনে “বৃদ্ধা মা’কে দেখলে গেলে ছেলেকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠেন।

বৃদ্ধা মা কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, প্রতিদিন কত জনই মোক (আমাকে) দেখিবা (দেখতে) আসেছে (আসতেছে), কিন্তু মোর (আমার) ছুয়াডা (ছেলেটা) একবারও দেখিবা (দেখতে) আসেনি।

মোর (আমার) ছুয়াডা (ছেলেটা) মনে হয় বিপদদত (বিপদে) পড়িছে (পড়েছে)। সে তানে (সেজন্যই) মোক (আমাকে) দেখিবা(দেখতে) আসে না। মোর (আমাকে) ছুয়াডার (ছেলেটার) কাছত (কাছে) নিয়া(নিয়ে) যাও, খুব দেখিবা (দেখতে) মনাইছে (ইচ্ছে করছে)। মুই( আমি) বাড়িত (বাড়িতে) যাম (যাব)। একটু (একবার) ছুয়াডার (ছেলেটার) মুখ খান দেখে আসিবা দো মোক (দেখে) আছি। সাংবাদিকলার তানে নাকি মোর ছুয়াডাক পুলিশ ধরিয়েছে (সাংবাদিকদের জন্য আমার ছেলেকে পুলিশ ধরেছে)। না হলে ঠিকই দেখিবিা আসিহিলে (না হলে অবশ্যই আমাকে দেখতে আসতো।

এভাবেই কথাগুলো বলতে বলতে ছেলেকে দেখার আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বৃদ্ধা মা।বৃদ্ধা মায়ের সাথে থাকা ছোট মেয়ে শরিফা জানান, দু’দিন ধরে বড় ভাইকে (বৃদ্ধার ছেলে) দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে মা। কিছু খেতেও চাই না। শুধু ছেলেকে দেখার জন্য বাড়িতে যেতে চাচ্ছে। অস্থির করে তুলেছে আমাকে।

প্রসঙ্গ, ছেলের বউয়ের কাছে ভাত চেয়েছিলেন শতবর্ষী বৃদ্ধা মা তসলিমা। একথা ছেলে দবির উদ্দীন জানতে পেরে লাঠি দিয়ে মাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। লাঠির আঘাতে তসলিমার বাঁ চোখের পাশ থেতলে গেছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে মাকে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিজ সন্তানের হাতে নির্যাতনের পরেও একবার ছেলের মুখটা দেখার জন্য বৃদ্ধা মায়ের আকুতি তখন আমার “মায়ের ভালবাসা প্রতি শ্রদ্ধাটা অনেক বেড়ে গেছিয়েছে”।

অপর দিকে একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে সেই মায়ের আকুতিটা…..সাংবাদিকলার তানে নাকি মোর ছুয়াডাক পুলিশ ধরিয়েছে (সাংবাদিকদের জন্য আমার ছেলেকে পুলিশ ধরেছে)। না হলে ঠিকই দেখিবিা আসিহিলে (না হলে অবশ্যই আমাকে দেখতে আসতো। বৃদ্ধার মায়ের সেই গুলো কেন জানি নিজের মধ্যে দোষারোপ মনে হচ্ছে। বার বার মনে হচ্ছে আসলেই আমি কি দোষ করে ফেলেছি কোন ?

আমিও কখনো চাই না কোন “মাকে” সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার যেন না হতে হয়। আর সেই অপরাধে সন্তানকে শাস্তি ভোগ করতে হোক।
সংবাদকর্মী হিসেবে অন্য সন্তানদের সচেতন করার জন্যই গণমাধ্যমে আমরা সংবাদকর্মীরা “বৃদ্ধা মায়ের নির্যাতনের” খবরটি প্রকাশ করেছি। কারণ সমাজে অনেক বৃদ্ধা মা পরিবারের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে, সেই সব খবর তুলে আনা সংবাদকর্মীর পক্ষেও তুলে আনা সম্ভব হয়ে উঠে না । খবর প্রকাশ করা যদি সেই কোন দোষের কারণ হয়ে থাকে সকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। সংবাদকর্মীরাও তো কোন মায়ের সন্তান।
মানুষ ভালবাসা এবং ঘৃণাকে বোধ করি একই সাথে বুকে ধারণ করে থাকে। ‘মা’ কে ভালবাসি এমন কথা বলতে সবাই পছন্দ করে। মার জন্য কত টান তা আমরা নানা ভাবে প্রকাশ করে থাকি। মার জন্য ঘৃণা কতখানি তা প্রকাশে আমাদের সঙ্কোচ রয়েছে।
আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ এতোখানি শক্ত যে, প্রকাশ্যে মাকে ঘৃণার কথা বলা যায় না। কম-বেশি সবাই মাকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অবহেলা করে থাকে। সেই অবহেলা নানান রকমের হয়। একটু খেয়াল করলে দেখবেন সন্তান যতক্ষণ পর্যন্ত মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে ততক্ষণ মায়ের জন্য অস্থির হয়ে উঠে। মায়ের স্নেহ-মমতা-ভালবাসা-আদর-সোহাগ পেতে সন্তানের আকুতি দেখার মতো। সন্তান সারাক্ষণই মাকে কাছে পেতে চায়। মায়ের সেবা পেতে চায়।
সন্তান যতো বড় হতে থাকে ততই মায়ের উপর নির্ভরতা কমে যায়। সন্তান এক সময় স্বনির্ভর হয়ে যায়। মা তখন সন্তান নির্ভর হতে তাকে। একটা সময় এসে পুরোপুরি সন্তান নির্ভর হয়ে যায়। আমাদের দেশে নারীর গড় আয়ু পুরুষের তুলনায় বেশি। আমাদের সমাজের প্রথা অনুযায়ী বিয়ের সময় নারীর বয়স পুরুষের চাইতে কম থাকে। বার্ধক্যে এসে নারীর আগে পুরুষ মৃত্যুবরণ করে।

বৃদ্ধ নারী শেষ পর্যন্ত সন্তানের মাথায় বোঝা হিসেবে হাজির হয়। শুরু হয় ‘মা’-এর অপমান-লাঞ্ছনা-অবহেলা। মা যদি শক্তি-সামর্থ্যবান হন, পরিবারে সেবা-সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন তবে কিছুটা গুরুত্ব মাঝে মধ্যে পেয়ে থাকেন। নাতি-নাতনির যত্ন এবং দেখাশোনার ক্ষমতা থাকলে ‘মা’ কিছুটা গুরুত্ব পান।

সেবা দেবার ক্ষমতা যতো কমতে থাকে মা ততই গুরুত্বহীন হতে থাকে। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মা নিরপেক্ষ থাকেন না। কোন না কোন সন্তানের প্রতি কিছুটা বেশি দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। সন্তানরা জানেন মা কাকে বেশি পছন্দ করে। মা সবসময়ই শক্তিমান সন্তানকে গোপনে সমর্থন করেন। কারণ মা বুঝতে পারেন তার কোন্ সন্তানটি বেশি উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময়। আসুন আমরা বৃদ্ধ বয়সে মা’কে যেন অবহেলা চোখে না দেখি । এটাই প্রত্যাশা সকল সন্তানের কাছে………………………….।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এলকোহল থেকে লিভার ডিজিজ

» অভিনেতা ডিপজলের হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার আজ

» আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে ৭ আইএস জঙ্গি নিহত

» ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ১৬.৫৬%

» দেবালয়ে আক্রমণ ও ভাঙচুরের পরিমান বেশি মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে || খালেদা জিয়া

» রায়পুরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

» ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশীকে আটক

» বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

» বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

» পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণার্থী পদে ২২৪ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

» পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

» গঙ্গাচড়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন ক্যারিয়ার বিতরণ

» রাণীরবন্দরে গ্রাম বিদ্যুতবিদ কল্যাণ সমিতির উদ্যেগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে অর্থ প্রদান

» কুড়িগ্রামে ৪জন রোহিঙ্গাকে শরনার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানো হলো

» অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চরফ্যাশনে চার শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দিলেন উপমন্ত্রী-জ্যাকব

Biggapon

Biggapon

সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

সন্তানকে দেখার আর্তনাদে ‘সেই বৃদ্ধা মা’ || “কখন আসিবে দেখিবা মোর ছুয়াডা!”

মনিরুল ইসলাম(রয়েল),ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া এলাকার নির্যাতিতা সেই আলোচিত বৃদ্ধা ‘মা’ ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। চোখের আঘাতের ক্ষত অনেকাংশে পূরণ হতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের দু’তলায় ৩নং কেবিনে “বৃদ্ধা মা’কে দেখলে গেলে ছেলেকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠেন।

বৃদ্ধা মা কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, প্রতিদিন কত জনই মোক (আমাকে) দেখিবা (দেখতে) আসেছে (আসতেছে), কিন্তু মোর (আমার) ছুয়াডা (ছেলেটা) একবারও দেখিবা (দেখতে) আসেনি।

মোর (আমার) ছুয়াডা (ছেলেটা) মনে হয় বিপদদত (বিপদে) পড়িছে (পড়েছে)। সে তানে (সেজন্যই) মোক (আমাকে) দেখিবা(দেখতে) আসে না। মোর (আমাকে) ছুয়াডার (ছেলেটার) কাছত (কাছে) নিয়া(নিয়ে) যাও, খুব দেখিবা (দেখতে) মনাইছে (ইচ্ছে করছে)। মুই( আমি) বাড়িত (বাড়িতে) যাম (যাব)। একটু (একবার) ছুয়াডার (ছেলেটার) মুখ খান দেখে আসিবা দো মোক (দেখে) আছি। সাংবাদিকলার তানে নাকি মোর ছুয়াডাক পুলিশ ধরিয়েছে (সাংবাদিকদের জন্য আমার ছেলেকে পুলিশ ধরেছে)। না হলে ঠিকই দেখিবিা আসিহিলে (না হলে অবশ্যই আমাকে দেখতে আসতো।

এভাবেই কথাগুলো বলতে বলতে ছেলেকে দেখার আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বৃদ্ধা মা।বৃদ্ধা মায়ের সাথে থাকা ছোট মেয়ে শরিফা জানান, দু’দিন ধরে বড় ভাইকে (বৃদ্ধার ছেলে) দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে মা। কিছু খেতেও চাই না। শুধু ছেলেকে দেখার জন্য বাড়িতে যেতে চাচ্ছে। অস্থির করে তুলেছে আমাকে।

প্রসঙ্গ, ছেলের বউয়ের কাছে ভাত চেয়েছিলেন শতবর্ষী বৃদ্ধা মা তসলিমা। একথা ছেলে দবির উদ্দীন জানতে পেরে লাঠি দিয়ে মাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। লাঠির আঘাতে তসলিমার বাঁ চোখের পাশ থেতলে গেছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে মাকে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিজ সন্তানের হাতে নির্যাতনের পরেও একবার ছেলের মুখটা দেখার জন্য বৃদ্ধা মায়ের আকুতি তখন আমার “মায়ের ভালবাসা প্রতি শ্রদ্ধাটা অনেক বেড়ে গেছিয়েছে”।

অপর দিকে একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে সেই মায়ের আকুতিটা…..সাংবাদিকলার তানে নাকি মোর ছুয়াডাক পুলিশ ধরিয়েছে (সাংবাদিকদের জন্য আমার ছেলেকে পুলিশ ধরেছে)। না হলে ঠিকই দেখিবিা আসিহিলে (না হলে অবশ্যই আমাকে দেখতে আসতো। বৃদ্ধার মায়ের সেই গুলো কেন জানি নিজের মধ্যে দোষারোপ মনে হচ্ছে। বার বার মনে হচ্ছে আসলেই আমি কি দোষ করে ফেলেছি কোন ?

আমিও কখনো চাই না কোন “মাকে” সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার যেন না হতে হয়। আর সেই অপরাধে সন্তানকে শাস্তি ভোগ করতে হোক।
সংবাদকর্মী হিসেবে অন্য সন্তানদের সচেতন করার জন্যই গণমাধ্যমে আমরা সংবাদকর্মীরা “বৃদ্ধা মায়ের নির্যাতনের” খবরটি প্রকাশ করেছি। কারণ সমাজে অনেক বৃদ্ধা মা পরিবারের বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে, সেই সব খবর তুলে আনা সংবাদকর্মীর পক্ষেও তুলে আনা সম্ভব হয়ে উঠে না । খবর প্রকাশ করা যদি সেই কোন দোষের কারণ হয়ে থাকে সকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। সংবাদকর্মীরাও তো কোন মায়ের সন্তান।
মানুষ ভালবাসা এবং ঘৃণাকে বোধ করি একই সাথে বুকে ধারণ করে থাকে। ‘মা’ কে ভালবাসি এমন কথা বলতে সবাই পছন্দ করে। মার জন্য কত টান তা আমরা নানা ভাবে প্রকাশ করে থাকি। মার জন্য ঘৃণা কতখানি তা প্রকাশে আমাদের সঙ্কোচ রয়েছে।
আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ এতোখানি শক্ত যে, প্রকাশ্যে মাকে ঘৃণার কথা বলা যায় না। কম-বেশি সবাই মাকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অবহেলা করে থাকে। সেই অবহেলা নানান রকমের হয়। একটু খেয়াল করলে দেখবেন সন্তান যতক্ষণ পর্যন্ত মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে ততক্ষণ মায়ের জন্য অস্থির হয়ে উঠে। মায়ের স্নেহ-মমতা-ভালবাসা-আদর-সোহাগ পেতে সন্তানের আকুতি দেখার মতো। সন্তান সারাক্ষণই মাকে কাছে পেতে চায়। মায়ের সেবা পেতে চায়।
সন্তান যতো বড় হতে থাকে ততই মায়ের উপর নির্ভরতা কমে যায়। সন্তান এক সময় স্বনির্ভর হয়ে যায়। মা তখন সন্তান নির্ভর হতে তাকে। একটা সময় এসে পুরোপুরি সন্তান নির্ভর হয়ে যায়। আমাদের দেশে নারীর গড় আয়ু পুরুষের তুলনায় বেশি। আমাদের সমাজের প্রথা অনুযায়ী বিয়ের সময় নারীর বয়স পুরুষের চাইতে কম থাকে। বার্ধক্যে এসে নারীর আগে পুরুষ মৃত্যুবরণ করে।

বৃদ্ধ নারী শেষ পর্যন্ত সন্তানের মাথায় বোঝা হিসেবে হাজির হয়। শুরু হয় ‘মা’-এর অপমান-লাঞ্ছনা-অবহেলা। মা যদি শক্তি-সামর্থ্যবান হন, পরিবারে সেবা-সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন তবে কিছুটা গুরুত্ব মাঝে মধ্যে পেয়ে থাকেন। নাতি-নাতনির যত্ন এবং দেখাশোনার ক্ষমতা থাকলে ‘মা’ কিছুটা গুরুত্ব পান।

সেবা দেবার ক্ষমতা যতো কমতে থাকে মা ততই গুরুত্বহীন হতে থাকে। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মা নিরপেক্ষ থাকেন না। কোন না কোন সন্তানের প্রতি কিছুটা বেশি দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। সন্তানরা জানেন মা কাকে বেশি পছন্দ করে। মা সবসময়ই শক্তিমান সন্তানকে গোপনে সমর্থন করেন। কারণ মা বুঝতে পারেন তার কোন্ সন্তানটি বেশি উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময়। আসুন আমরা বৃদ্ধ বয়সে মা’কে যেন অবহেলা চোখে না দেখি । এটাই প্রত্যাশা সকল সন্তানের কাছে………………………….।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited