দুপুর ১২:৫১ | বুধবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০১৮ ইং | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রাণ আপ

pran-up-add

টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে || রিজভী

বিনোদন ডেস্ক: প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের আরও একটি নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওবার্তার পর তদন্তে নামে দেশীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা।

প্রশাসনের গাফলতি থাকলেও গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নতুন একটি তথ্য।

সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরার মা লাতিফা হক। সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি রিজভী ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতেই এই কথা জানিয়েছিলেন। রিজভীর মতে, সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন।

উল্লেখ করা হয়, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।

হত্যার ঘটনা সম্পর্কে আসামি রিজভি জানায়, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে।

ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে।

এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলায়।

এছাড়া জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়াও ছাত্তার ও সাজু নামে আরো দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্ত প্রত্যক্ষ আসামির এই জবানবন্দির পরও যাদের নাম পাওয়া যায় তারা সবসময়ই ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হত্যার এক বছর পর সিআইডির রিপোর্টে বলা হয়- এটি আত্মহত্যা। ১২ বছর পর দেয়া জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির রিপোর্টে একই কারণ দেখানো হয় । কিন্তু কোন আসামি বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোন অস্তিত্ব নেই রিপোর্টগুলোতে। দু’বারই নারাজি দেন সালমানের পরিবার।

২০১৫ সালে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে আইনী জটিলতায় তাও বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে মামলাটি নিম্ম আদালতে পাঠানো হলে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ পিবিআইকে।

এদিকে সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা জানার বিষয়টি যে আগে থেকেই রুবি জানতেন তা বোঝা যায় রিজভির জবানবন্দিতে। হত্যার আগে রুবির বাসায় যান হত্যাকারীরা।

অন্যদিকে ২১ বছর পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সালমান শাহ হত্যা মামলার অনেক কাগজপত্র। বারবার নারাজি দেয়ার পরও তদন্ত বা মামলা পরিচালনায় গুরুত্ব পায়নি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনা। এমনকি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত রিজভী স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং তদন্তে গাফেলতির কারণে বেশিরভাগ আসামিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের গাফলতি ও অসহযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়। তারপরও তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। দেশ সেরা নায়ককে এমন নির্মভাবে হত্যা করে খুনিরা দিব্যি হেসে-খেলে জীবন কাটাচ্ছে, এটা কোটি সালমান ভক্তের জন্য সবচেয়ে দুঃখের কথা।

তবে হাল ছাড়ছেন না সালমানের পরিবার ও তার ভক্তরা। বিচারের দাবি জানিয়ে হুংকার দিচ্ছেন সবাই। আশা করছেন দ্রুতই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ের সুরাহা করবেন।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রকাশিত

» আইফোন ও স্যামসাংকেও হার মানাবে হুয়াওয়ের মেট ১০!

» মাত্র ৭,৮৯০ টাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারযুক্ত ‘ওয়াল্টনের প্রিমো এইচএম৪’

» ডিএনসিসির মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে আ’লীগ

» সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

» সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

» বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনে শূন্য পদে নিয়োগ

» মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

» নতুন রূপে এলো নকিয়া সিক্সে-২০১৮ এডিশন

» তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদকে বনপা’র অভিনন্দন

» দাবাং থ্রি-তে-সালমানের নায়িকা বাঙালি-মৌনী

» চলচ্চিত্রের সফলতার চেয়ে আলোচনা ছিল বেশি

» বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা ৬ জানুয়ারি

» বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন সব উদ্ভাবন

» সৌদি প্রবাসীর কথিত স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি আটক

Biggapon

Biggapon

সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে || রিজভী

বিনোদন ডেস্ক: প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের আরও একটি নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আমেরিকা প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওবার্তার পর তদন্তে নামে দেশীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা।

প্রশাসনের গাফলতি থাকলেও গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নতুন একটি তথ্য।

সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরার মা লাতিফা হক। সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি রিজভী ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতেই এই কথা জানিয়েছিলেন। রিজভীর মতে, সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন।

উল্লেখ করা হয়, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।

হত্যার ঘটনা সম্পর্কে আসামি রিজভি জানায়, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে।

ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে।

এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলায়।

এছাড়া জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়াও ছাত্তার ও সাজু নামে আরো দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্ত প্রত্যক্ষ আসামির এই জবানবন্দির পরও যাদের নাম পাওয়া যায় তারা সবসময়ই ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হত্যার এক বছর পর সিআইডির রিপোর্টে বলা হয়- এটি আত্মহত্যা। ১২ বছর পর দেয়া জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির রিপোর্টে একই কারণ দেখানো হয় । কিন্তু কোন আসামি বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোন অস্তিত্ব নেই রিপোর্টগুলোতে। দু’বারই নারাজি দেন সালমানের পরিবার।

২০১৫ সালে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে আইনী জটিলতায় তাও বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে মামলাটি নিম্ম আদালতে পাঠানো হলে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ পিবিআইকে।

এদিকে সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা জানার বিষয়টি যে আগে থেকেই রুবি জানতেন তা বোঝা যায় রিজভির জবানবন্দিতে। হত্যার আগে রুবির বাসায় যান হত্যাকারীরা।

অন্যদিকে ২১ বছর পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সালমান শাহ হত্যা মামলার অনেক কাগজপত্র। বারবার নারাজি দেয়ার পরও তদন্ত বা মামলা পরিচালনায় গুরুত্ব পায়নি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনা। এমনকি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত রিজভী স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং তদন্তে গাফেলতির কারণে বেশিরভাগ আসামিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের গাফলতি ও অসহযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়। তারপরও তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। দেশ সেরা নায়ককে এমন নির্মভাবে হত্যা করে খুনিরা দিব্যি হেসে-খেলে জীবন কাটাচ্ছে, এটা কোটি সালমান ভক্তের জন্য সবচেয়ে দুঃখের কথা।

তবে হাল ছাড়ছেন না সালমানের পরিবার ও তার ভক্তরা। বিচারের দাবি জানিয়ে হুংকার দিচ্ছেন সবাই। আশা করছেন দ্রুতই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ের সুরাহা করবেন।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited