দুপুর ২:২১ | রবিবার | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রাণ আপ

pran-up-add

গবাদি পশুর সুষম খাদ্য ও কার্যকারিতা

গবাদিপশুর সুষম খাদ্য বলতে বুঝায় যে খাদ্যে আমিষ, শর্করা, স্নেহ বা চর্বি, খনিজ লবণ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ ও পানি সঠিক অনুপাতে থাকে। গবাদিপশুর বৃদ্ধি ও গঠনে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। সুষম খাদ্যের অভাবে পশুর অপুষ্টি দেখা দেয় এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ হয়।

১। আমিষ: আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য অন্ত্রে পরিপাক হয়ে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। পরে তা অন্ত্রে শোষিত হয়ে রক্তে মিশে এবং দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে। এ কারণে সব বয়সেই দেহে আমিষের প্রয়োজন থাকে। তবে বাড়ন্ত বয়সে এ চাহিদা থাকে আরো বেশি। আমিষের সহায়তায় দেহের ভেতরে জৈব অনুঘটক এনজাইম তৈরি হয়। যেমন- পেপসিন, ট্রিপসিন ইত্যাদি। এসব এনজাইম খাদ্যের প্রোটিন, লিপিড ও শর্করাকে ভেঙে সহজপাচ্য পুষ্টিতে রূপান্তরিত করে যা কোষ সহজেই শোষণ ও সদ্ব্যবহার করতে পারে। পশুর দেহের রক্ত, পেশী ও সংযোজক কলার প্রধান অংশই প্রোটিনে গঠিত। খাদ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন পশু দেহের শক্তি ও চর্বির উৎস হিসেবে কাজে লাগে।

২। শর্করা: শর্করা পশু দেহে কর্মশক্তি যোগায়। শর্করা খাদ্যান্ত্রে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় যা অন্ত্রে শোষিত হয়ে রক্তে মিশে কার্যসম্পাদন করে। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেনরূপে জমা থাকে এবং খাদ্যে শর্করার অভাব হলে প্রয়োজনে সেই গ্লাইকোজেন কর্মশক্তি যোগায়।

৩। স্নেহ বা চর্বি: স্নেহ প্রাণী দেহের টিস্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গবাদি পশুর প্রধানত তাপ ও শক্তির উত্স হিসেবে সঞ্চিত থাকে। সাধারণত গবাদি পশুর দানাদার খাদ্যে শতকরা ৪ ভাগ চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকা প্রয়োজন।

৪। খনিজ লবণ: খনিজ পদার্থ বাড়ন্ত পশুর নতুন অস্থি ও টিস্যু সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপাদান কঙ্কালের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখে। পশুর লোম, ক্ষুর ও শিং গঠনে খনিজ পদার্থ প্রয়োজন। খনিজ পদার্থ যেমন- লৌহ রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করতে সহায়তা করে। আবার পটাসিয়াম পশুর দেহের তরল পদার্থের অ্যাসিড বেসের সমতা রক্ষা করে।

৫। ভিটামিন: যেসব জৈব যৌগ খাদ্য উপাদান হিসেবে অল্প পরিমাণ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক তাদের ভিটামিন বলা হয়। প্রাণী দেহের জন্য পর্যাপ্ত আমিষ, শর্করা, স্নেহ ও খনিজ পদার্থ খাদ্যের সাথে সরবরাহ করেও ভিটামিন ছাড়া জীবন চালনা সম্ভব হয় না। স্বাভাবিক টিস্যুর বৃদ্ধি, দৈহিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিন অত্যাবশ্যক। পশুখাদ্যে যদি ভিটামিন না থাকে অথবা সুষ্ঠুভাবে ভিটামিন শোষিত না হয় কিংবা দেহে ভিটামিন সদ্ব্যবহার না হয় তবে সুনির্দিষ্ট রোগ হয়। যেমন- ভিটামিন ‘এ’ -এর অভাবে রাতকানা, জনন কর্মক্ষমতা হারানো, ভিটামিন ‘কে’ -এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হয় এবং ভিটামিন ‘ই’ -এর অভাবে জনন অকৃতকার্যতা পরিলক্ষিত হয়।

৬। পানি: পশুদেহের শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগ পানি। সাধারণত দানাদার খাদ্যে শতকরা ১০ ভাগ ও খড় জাতীয় খাদ্যে শতকরা ১৫ ভাগ পানি থাকে। আবার সবুজ ঘাসে পানির পরিমাণ শতকরা ৯০ ভাগ। পশুখাদ্যে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকা সত্ত্বেও পশুকে পৃথকভাবে পানি সরবরাহ করতে হয়। কারণ পানি দেহের কোষের কাঠিন্য ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। এতে প্রাণিদেহের কাঠামো ঠিক থাকে। পানি ছাড়া দেহে যেকোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটা সম্ভব নয়। পানি দেহের এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে বিভিন্ন পুষ্টিকারক পদার্থ সরবরাহ করে। তাছাড়া পানি দেহের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে। আবার পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবেও কাজ করে।
লেখক: ডাঃ সুমন তালুকদার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গঙ্গাচড়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন ক্যারিয়ার বিতরণ

» রাণীরবন্দরে গ্রাম বিদ্যুতবিদ কল্যাণ সমিতির উদ্যেগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে অর্থ প্রদান

» কুড়িগ্রামে ৪জন রোহিঙ্গাকে শরনার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানো হলো

» অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চরফ্যাশনে চার শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দিলেন উপমন্ত্রী-জ্যাকব

» লালমনিরহাটে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য প্রথম আলো বন্ধুসভার মানববন্ধন

» ঠাকুরগাঁওয়ে ৪র্থ শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা!

» লালমনিরহাটে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু খুলে দেয়ার দাবি বন্যার্তদের

» হুয়াওয়ের ফুল ভিউ ডিসপ্লে নতুন ফোন

» ইসলামে মেয়েদের চাকরির অনুমতি আছে কি? ব্যাখ্যা জাকির নায়েকের

» বেকারত্ব দূরীকরণে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ

» বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন অমর সিং? জল্পনা উসকে দিলেন বহিষ্কৃত সপা নেতা

» মিয়ানমারকে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার সুপারিশ করেন || কফি আনান

» চেন্নাইতে সেঞ্চুরি না করেও সেঞ্চুরি পেলেন ধোনি!

» বিল গেটসের সফলতার দশ সুত্র

» চিকিৎসা শেষেই দেশে ফিরবেন বেগম খালেদা জিয়া

Biggapon

Biggapon

সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

গবাদি পশুর সুষম খাদ্য ও কার্যকারিতা

গবাদিপশুর সুষম খাদ্য বলতে বুঝায় যে খাদ্যে আমিষ, শর্করা, স্নেহ বা চর্বি, খনিজ লবণ, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ ও পানি সঠিক অনুপাতে থাকে। গবাদিপশুর বৃদ্ধি ও গঠনে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। সুষম খাদ্যের অভাবে পশুর অপুষ্টি দেখা দেয় এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ হয়।

১। আমিষ: আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য অন্ত্রে পরিপাক হয়ে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। পরে তা অন্ত্রে শোষিত হয়ে রক্তে মিশে এবং দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে। এ কারণে সব বয়সেই দেহে আমিষের প্রয়োজন থাকে। তবে বাড়ন্ত বয়সে এ চাহিদা থাকে আরো বেশি। আমিষের সহায়তায় দেহের ভেতরে জৈব অনুঘটক এনজাইম তৈরি হয়। যেমন- পেপসিন, ট্রিপসিন ইত্যাদি। এসব এনজাইম খাদ্যের প্রোটিন, লিপিড ও শর্করাকে ভেঙে সহজপাচ্য পুষ্টিতে রূপান্তরিত করে যা কোষ সহজেই শোষণ ও সদ্ব্যবহার করতে পারে। পশুর দেহের রক্ত, পেশী ও সংযোজক কলার প্রধান অংশই প্রোটিনে গঠিত। খাদ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন পশু দেহের শক্তি ও চর্বির উৎস হিসেবে কাজে লাগে।

২। শর্করা: শর্করা পশু দেহে কর্মশক্তি যোগায়। শর্করা খাদ্যান্ত্রে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় যা অন্ত্রে শোষিত হয়ে রক্তে মিশে কার্যসম্পাদন করে। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেনরূপে জমা থাকে এবং খাদ্যে শর্করার অভাব হলে প্রয়োজনে সেই গ্লাইকোজেন কর্মশক্তি যোগায়।

৩। স্নেহ বা চর্বি: স্নেহ প্রাণী দেহের টিস্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। গবাদি পশুর প্রধানত তাপ ও শক্তির উত্স হিসেবে সঞ্চিত থাকে। সাধারণত গবাদি পশুর দানাদার খাদ্যে শতকরা ৪ ভাগ চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকা প্রয়োজন।

৪। খনিজ লবণ: খনিজ পদার্থ বাড়ন্ত পশুর নতুন অস্থি ও টিস্যু সৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই উপাদান কঙ্কালের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখে। পশুর লোম, ক্ষুর ও শিং গঠনে খনিজ পদার্থ প্রয়োজন। খনিজ পদার্থ যেমন- লৌহ রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করতে সহায়তা করে। আবার পটাসিয়াম পশুর দেহের তরল পদার্থের অ্যাসিড বেসের সমতা রক্ষা করে।

৫। ভিটামিন: যেসব জৈব যৌগ খাদ্য উপাদান হিসেবে অল্প পরিমাণ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক তাদের ভিটামিন বলা হয়। প্রাণী দেহের জন্য পর্যাপ্ত আমিষ, শর্করা, স্নেহ ও খনিজ পদার্থ খাদ্যের সাথে সরবরাহ করেও ভিটামিন ছাড়া জীবন চালনা সম্ভব হয় না। স্বাভাবিক টিস্যুর বৃদ্ধি, দৈহিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিন অত্যাবশ্যক। পশুখাদ্যে যদি ভিটামিন না থাকে অথবা সুষ্ঠুভাবে ভিটামিন শোষিত না হয় কিংবা দেহে ভিটামিন সদ্ব্যবহার না হয় তবে সুনির্দিষ্ট রোগ হয়। যেমন- ভিটামিন ‘এ’ -এর অভাবে রাতকানা, জনন কর্মক্ষমতা হারানো, ভিটামিন ‘কে’ -এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হয় এবং ভিটামিন ‘ই’ -এর অভাবে জনন অকৃতকার্যতা পরিলক্ষিত হয়।

৬। পানি: পশুদেহের শতকরা ৭০ থেকে ৯০ ভাগ পানি। সাধারণত দানাদার খাদ্যে শতকরা ১০ ভাগ ও খড় জাতীয় খাদ্যে শতকরা ১৫ ভাগ পানি থাকে। আবার সবুজ ঘাসে পানির পরিমাণ শতকরা ৯০ ভাগ। পশুখাদ্যে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকা সত্ত্বেও পশুকে পৃথকভাবে পানি সরবরাহ করতে হয়। কারণ পানি দেহের কোষের কাঠিন্য ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। এতে প্রাণিদেহের কাঠামো ঠিক থাকে। পানি ছাড়া দেহে যেকোনো ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটা সম্ভব নয়। পানি দেহের এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে বিভিন্ন পুষ্টিকারক পদার্থ সরবরাহ করে। তাছাড়া পানি দেহের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে। আবার পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবেও কাজ করে।
লেখক: ডাঃ সুমন তালুকদার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited