রাত ১২:২৩ | বুধবার | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

প্রাণ আপ

pran-up-add

আমাদের মাংস শিল্প ও ভারতীয় গরু

প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ আমাদের । মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ডে হিসাব করলে বাৎসরিক ৭ মিলিয়ন মেট্রিকটন মাংসের চাহিদার বিপরীতে আমরা উৎপাদন করছি আনুমানিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিকটন (সূত্র: ডিএলএস, ২০১৩- ২০১৪)।

প্রায় অর্ধেক ঘাটতি তো আছেই তাছাড়া প্রতিবছর ঈদুল আয্হার পূর্বে বিপুল চাহিদার সৃষ্টি হয়। এই বিশাল চাহিদার খাতিরে বাংলাদেশে প্রাণী উৎপাদন ইতোমধ্যেই বৃহত্তর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রূপ নিয়েছে যা শুধু মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য না দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবেও কাজ করছে ।

এ লেখার মূল বিষয় যেহেতু বিফ তাই গরুর খামারের একটি পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝবেন কত দ্রুত এ শিল্প বৃদ্ধি পাচ্ছে, ১৯৮০ সালের দিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ডেইরি খামারের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৭ টি আর ২০১০ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার (সূত্র: ডিএলএস, ২০১১)!

তাহলে হিসেবকরেন কত লক্ষ্য মানুষ এ শিল্পের মাধ্যমে অর্থনীতির সাথে জড়িত? এটিতো একটি সেক্টরের উদাহরণ মাংসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সেক্টর হিসেবে নিলে এ সংখ্যা অনেক বড় ।

এই শিল্পায়ন মূলত হয়েছে আমাদের বিপুল চাহিদার জন্যই, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যত বাড়বে ততো চাহিদা বাড়বে সেইসাথে দাম বাড়বে ফলশ্রূতিতে মানুষ আরো বেশি ব্যবসায়ীক বিনিয়োগ করবে, এই পুরা বেপারটি একটি চক্রের মতো ।

এর কোনো এক ধাপে যদি ধাক্কা লাগে তাহলে পুরা সিস্টেমই নড়বড়ে হয়ে যাবে । আমি মনে করি পার্শবর্তী দেশ থেকে মাংসজাত প্রাণী বা মাংস আমদানি আমাদের দেশীয় বিফ বা মাংস উৎপাদনের এই রিদমে এক বিশাল ধাক্কা ।

কিভাবে ? বাংলাদেশে এই ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বহু খামারি সারাবছর ধরে প্রাকৃতিক উপায়ে বিফ ফ্যাটেনিং করছে কিছু লাভের আশায়, এখন বাজারে হটাৎ অন্য দেশ থেকে যদি বিপুল কম দামের গরুর ইনফ্লাক্স হয় তাহলে বুঝুন এসব দেশীয় মাংস উৎপাদনকারী খামারিদের কি অবস্থা? এটি তো অসম প্রতিযোগিতা, ভারতে উৎপাদন খরচ কম তাছাড়া তাদের দেশে বিফের চাহিদা কম থাকায় সেখানে দামও কম তাই তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে ।

অন্যদিকে আমাদের দেশে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বেশি, চাহিদাও বেশি তাই বিফের চড়া দাম, এই সুযোগটিই নিচ্ছে পশু আমদানিকারকরা আর চোখে সর্ষে ফুল দেখে আমাদের খামারিরা ।

আর এভাবে দেশীয় উৎপাদকরা একবছর ক্ষতির সম্মুখীন হলে পরের বছর চরম নিরুৎসাহিত হবে, ফলাফলে আমদানি আরো বাড়তে থাকবে ।
এজন্যই বললাম এটি একটি চক্রের মতো । আর এটি বন্ধ করতে “ভারতীয় গরুকে না বলুন” এই স্লোগান দিয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ বাজারে মানুষ যেটি সস্তায় পাবে সেটি কিনবে এটাই স্বাভাবিক ।

তাহলে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে আমাদের কি করা উচিত? খুব সোজা হিসাব এই চক্রের চাকাকে উল্টা দিকে ঘুরানো, এককথায় দেশীয় উৎপাদনের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে উচ্চমাত্রার আমদানি শুল্ক দিয়ে পশু আমদানি নিরুৎসাহিত করা । কয়েকবছর এ কাজ করে দেখুন, বিলিয়ন টাকার বিনিয়োগ হবে এই শিল্পে, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, আমরা দেশীয় মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসুম্পূর্ণ হবো ।

করণীয়:
১) দেশীয় উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে মাংসজাত পশু আমদানিতে উচ্চমাত্রার আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা , যাতে আমদানি নিরুৎসাহিত হয়।
২) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে স্বল্পসুদে বাণিজ্যিক ঋণ দেয়া ।
৩) প্রাণীখাদ্য, সরঞ্জাম, ঔষুধ, টিকা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক অব্যহতি দেয়া।
৪) প্রাণিসম্পদের সেবা খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্ত্র স্থাপন করা ।
৫) প্রাণীখাদ্য, ঔষুধ , টিকা ইত্যাদি উৎপাদনে দেশীয় উৎপাদকদের উৎসাহিত করা ।
৬) পারিবারিক পর্যায়ের খামারি বা ক্ষুদ্র খামারিদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ।
৭) সর্বোপরি খামার ব্যবস্থাপনা, লাইভস্টক মার্কেটিং, প্রাণীখাদ্য উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করা ।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এলকোহল থেকে লিভার ডিজিজ

» অভিনেতা ডিপজলের হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার আজ

» আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে ৭ আইএস জঙ্গি নিহত

» ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ১৬.৫৬%

» দেবালয়ে আক্রমণ ও ভাঙচুরের পরিমান বেশি মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে || খালেদা জিয়া

» রায়পুরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

» ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর হাতে বাংলাদেশীকে আটক

» বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেডে (বাকেশি) বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

» বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

» পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণার্থী পদে ২২৪ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

» পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

» গঙ্গাচড়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন ক্যারিয়ার বিতরণ

» রাণীরবন্দরে গ্রাম বিদ্যুতবিদ কল্যাণ সমিতির উদ্যেগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে অর্থ প্রদান

» কুড়িগ্রামে ৪জন রোহিঙ্গাকে শরনার্থী শিবিরে ফেরত পাঠানো হলো

» অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে চরফ্যাশনে চার শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি দিলেন উপমন্ত্রী-জ্যাকব

Biggapon

Biggapon

সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited

,

আমাদের মাংস শিল্প ও ভারতীয় গরু

প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ আমাদের । মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ডে হিসাব করলে বাৎসরিক ৭ মিলিয়ন মেট্রিকটন মাংসের চাহিদার বিপরীতে আমরা উৎপাদন করছি আনুমানিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিকটন (সূত্র: ডিএলএস, ২০১৩- ২০১৪)।

প্রায় অর্ধেক ঘাটতি তো আছেই তাছাড়া প্রতিবছর ঈদুল আয্হার পূর্বে বিপুল চাহিদার সৃষ্টি হয়। এই বিশাল চাহিদার খাতিরে বাংলাদেশে প্রাণী উৎপাদন ইতোমধ্যেই বৃহত্তর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রূপ নিয়েছে যা শুধু মাংসের চাহিদা মেটানোর জন্য না দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবেও কাজ করছে ।

এ লেখার মূল বিষয় যেহেতু বিফ তাই গরুর খামারের একটি পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝবেন কত দ্রুত এ শিল্প বৃদ্ধি পাচ্ছে, ১৯৮০ সালের দিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ডেইরি খামারের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৭ টি আর ২০১০ সালে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার (সূত্র: ডিএলএস, ২০১১)!

তাহলে হিসেবকরেন কত লক্ষ্য মানুষ এ শিল্পের মাধ্যমে অর্থনীতির সাথে জড়িত? এটিতো একটি সেক্টরের উদাহরণ মাংসের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সেক্টর হিসেবে নিলে এ সংখ্যা অনেক বড় ।

এই শিল্পায়ন মূলত হয়েছে আমাদের বিপুল চাহিদার জন্যই, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যত বাড়বে ততো চাহিদা বাড়বে সেইসাথে দাম বাড়বে ফলশ্রূতিতে মানুষ আরো বেশি ব্যবসায়ীক বিনিয়োগ করবে, এই পুরা বেপারটি একটি চক্রের মতো ।

এর কোনো এক ধাপে যদি ধাক্কা লাগে তাহলে পুরা সিস্টেমই নড়বড়ে হয়ে যাবে । আমি মনে করি পার্শবর্তী দেশ থেকে মাংসজাত প্রাণী বা মাংস আমদানি আমাদের দেশীয় বিফ বা মাংস উৎপাদনের এই রিদমে এক বিশাল ধাক্কা ।

কিভাবে ? বাংলাদেশে এই ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বহু খামারি সারাবছর ধরে প্রাকৃতিক উপায়ে বিফ ফ্যাটেনিং করছে কিছু লাভের আশায়, এখন বাজারে হটাৎ অন্য দেশ থেকে যদি বিপুল কম দামের গরুর ইনফ্লাক্স হয় তাহলে বুঝুন এসব দেশীয় মাংস উৎপাদনকারী খামারিদের কি অবস্থা? এটি তো অসম প্রতিযোগিতা, ভারতে উৎপাদন খরচ কম তাছাড়া তাদের দেশে বিফের চাহিদা কম থাকায় সেখানে দামও কম তাই তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে ।

অন্যদিকে আমাদের দেশে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বেশি, চাহিদাও বেশি তাই বিফের চড়া দাম, এই সুযোগটিই নিচ্ছে পশু আমদানিকারকরা আর চোখে সর্ষে ফুল দেখে আমাদের খামারিরা ।

আর এভাবে দেশীয় উৎপাদকরা একবছর ক্ষতির সম্মুখীন হলে পরের বছর চরম নিরুৎসাহিত হবে, ফলাফলে আমদানি আরো বাড়তে থাকবে ।
এজন্যই বললাম এটি একটি চক্রের মতো । আর এটি বন্ধ করতে “ভারতীয় গরুকে না বলুন” এই স্লোগান দিয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ বাজারে মানুষ যেটি সস্তায় পাবে সেটি কিনবে এটাই স্বাভাবিক ।

তাহলে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে আমাদের কি করা উচিত? খুব সোজা হিসাব এই চক্রের চাকাকে উল্টা দিকে ঘুরানো, এককথায় দেশীয় উৎপাদনের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে উচ্চমাত্রার আমদানি শুল্ক দিয়ে পশু আমদানি নিরুৎসাহিত করা । কয়েকবছর এ কাজ করে দেখুন, বিলিয়ন টাকার বিনিয়োগ হবে এই শিল্পে, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, আমরা দেশীয় মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসুম্পূর্ণ হবো ।

করণীয়:
১) দেশীয় উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে মাংসজাত পশু আমদানিতে উচ্চমাত্রার আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা , যাতে আমদানি নিরুৎসাহিত হয়।
২) ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে স্বল্পসুদে বাণিজ্যিক ঋণ দেয়া ।
৩) প্রাণীখাদ্য, সরঞ্জাম, ঔষুধ, টিকা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক অব্যহতি দেয়া।
৪) প্রাণিসম্পদের সেবা খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্ত্র স্থাপন করা ।
৫) প্রাণীখাদ্য, ঔষুধ , টিকা ইত্যাদি উৎপাদনে দেশীয় উৎপাদকদের উৎসাহিত করা ।
৬) পারিবারিক পর্যায়ের খামারি বা ক্ষুদ্র খামারিদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ।
৭) সর্বোপরি খামার ব্যবস্থাপনা, লাইভস্টক মার্কেটিং, প্রাণীখাদ্য উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করা ।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সদস্য মণ্ডলীঃ-

সম্পাদকঃ এ, বি মালেক (স্বপ্নিল)
সহঃ সম্পাদকঃ মোঃ লতিফুল ইসলাম
উপদেষ্টাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
আইটি উপদেষ্টাঃ মাহির শাহরিয়ার শিশির
আইটি সম্পাদকঃ আসাদ্দুজামান সাগর
প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক (CEO):
ইঞ্জিনিয়ার এম, এ, মালেক (জীবন)

যোগাযোগঃ-

৮৬৮ কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ-১২১৬।
ইমেইলঃ info@dailynewsbd24.com, dailynewsbd247@gmail.com,
ওয়েবঃ www.dailynewsbd24.com
মোবাইলঃ +৮৮-০১৯৯৩৩৩৯৯৯৪-৯৯৬,
+৮৮-০১৭২১৫৬৭৭৮৯

Design & Devaloped BY Creation IT BD Limited